অনেকে মনে করেন ড্রপশিপিং মানেই শুধু অনলাইনে পড়ে থাকা। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, বাংলাদেশে অফলাইন এবং অনলাইন—উভয় মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কোনো ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই একটি টেকসই ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।


বাংলাদেশে মানুষ পরিচিত মানুষের কাছ থেকে কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বন্ধু ও পরিবার: আপনার মোবাইলে থাকা পণ্যের ছবি বা ভিডিও তাদের দেখান। তারা অর্ডার করলে সরাসরি সাপ্লায়ারের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। আপনার কোনো স্টক রাখার প্রয়োজন নেই।

লিফলেট ও ব্রোশিওর: নিজের এলাকার জন্য ছোট লিফলেট বানান। আশেপাশে বিলি করলে সবাই জানবে আপনি কী সরবরাহ করতে পারেন। লোকাল দোকানদার: আপনার এলাকার দোকানের জন্য নতুন এবং ট্রেন্ডি পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করুন। আপনি সরাসরি সাপ্লায়ার দিয়ে দোকানদারের কাছে ডেলিভারি করাতে পারেন।

অফলাইন ক্যাটালগ: একটি প্রিন্টেড ক্যাটালগ বা মোবাইলের সাজানো অ্যালবাম সাথে রাখুন। কেউ প্রোডাক্ট দেখতে চাইলে তৎক্ষণাৎ দেখাতে পারবেন। প্রো টিপ: যেহেতু আপনি স্টক রাখেন না, তাই গ্রাহককে আগেই বলে রাখুন—অর্ডার কনফার্ম করার ২-৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি হবে। এতে তাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট থাকবে।


ব্যক্তিগত প্রোফাইল: নিজের প্রোফাইলকে একটি ছোট্ট বিশ্বস্ত দোকানে রূপান্তর করুন। নিয়মিত পোস্ট দিন, তবে ব্যবসার সাথে নিজের জীবন বা আপডেটও শেয়ার করুন যেন মানুষ আপনাকে একজন “রিয়েল পারসন” হিসেবে বিশ্বাস করে।

মার্কেটপ্লেস (Facebook Marketplace): প্রতিদিন অন্তত ১-২টি ইউনিক প্রোডাক্ট লিস্টিং করুন। সহজ ভাষায় টাইটেল লিখুন। গ্রুপ ভিত্তিক সেল: বাই-সেল গ্রুপ বা এরিয়াভিত্তিক গ্রুপে সক্রিয় হোন। সরাসরি বিজ্ঞাপনের বদলে কেউ কোনো পণ্য খুঁজলে তাকে সাহায্য করার ছলে আপনার পণ্যটি সাজেস্ট করুন।

ইউজার কন্টেন্ট (UGC): কাস্টমার যখন পণ্য পাবে, তাদের ছবি বা ভিডিও দিতে উৎসাহিত করুন। অন্যের রিভিউ দেখলে মানুষ দ্রুত কেনে। মেসেঞ্জার ব্রডকাস্ট: যারা আগে আপনার সাথে যোগাযোগ করেছে, তাদের নিয়ে একটি লিস্ট বানান। মাসে ২-৩ বার সেরা অফারগুলো তাদের ইনবক্সে পৌঁছে দিন (স্প্যামিং এড়িয়ে)।


ড্রপগঞ্জে কাজ করলে আপনি শুধু পণ্যের লাভ নয়, বরং টার্গেট পূরণের মাধ্যমে একটি নিশ্চিত মাসিক স্যালারি পেতে পারেন।

মাসিক স্যালারি চার্ট (উদাহরণ)

আপনার মোট মাসিক বিক্রয়ের ওপর ভিত্তি করে স্যালারি নির্ধারিত হবে:

মাসিক বিক্রয় (পণ্য সংখ্যা)মাসিক স্যালারি (টাকা)
৬০টি পণ্য২,০০০/-
১০০টি পণ্য৩,০০০/-
২০০টি পণ্য৬,০০০/-
৫০০টি পণ্য১৫,০০০/-
১০০০টি পণ্য৩০,০০০/-

দোকানদারদের জন্য: সরাসরি ড্রপগঞ্জ থেকে পণ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করুন এবং স্যালারি বোনাস উপভোগ করুন। সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের জন্য: আপনার কাজ হবে দোকানদারদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। আমরা আপনাকে প্রফেশনাল পণ্য ক্যাটালগ দিয়ে সহায়তা করব।

অনলাইন শপ ওনারদের জন্য: ড্রপশিপিং মডেলে কমিশন এবং টার্গেট বোনাস—উভয়ই পাওয়ার সুযোগ থাকছে।


ডেলিভারি সাপোর্ট: আমরা সরাসরি আপনার গ্রাহক বা দোকানদারের কাছে পণ্য পৌঁছে দেব। মার্কেটিং সাপোর্ট: আমরা আপনার জন্য কাস্টমাইজড পণ্য ক্যাটালগ এবং মার্কেটিং ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে দেব। নিশ্চিত পেমেন্ট: আপনার অর্জিত কমিশন এবং স্যালারি মাসের শেষ ২-৩ দিনের মধ্যে আপনার হাতে পৌঁছে যাবে।


বাংলাদেশে ড্রপশিপিংয়ে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো বিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা। অনলাইন এবং অফলাইনের এই কম্বিনেশন ব্যবহার করে আপনি আজই আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।